কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন পাহাড়ে অভিযান চালাতে গিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সঙ্গে একটি ডাকাত দলের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতদের অস্থায়ী আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, মর্টার শেল, হ্যান্ড গ্রেনেড ও বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে নিশ্চিত করেন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।
তিনি জানান, টেকনাফের হ্নীলা রঙ্গীখালী পাহাড় ও বাহারছড়া মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি ডাকাত দল অস্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অপহরণ, গুম, খুন এবং মানবপাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এসব স্বশস্ত্র ডাকাত দল একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার ও চোরাচালানের সঙ্গেও জড়িত ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ৬৪ বিজিবির গোয়েন্দা দল বেশ কিছুদিন ধরে এসব ডাকাত দলের বিরুদ্ধে নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের মাধ্যমে উখিয়া ব্যাটালিয়ন জানতে পারে, হ্নীলা রঙ্গীখালী পাহাড় এলাকায় ডাকাত দলের সদস্যরা স্বশস্ত্র অবস্থায় অবস্থান করছে।
পরবর্তীতে ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নেতৃত্বে একটি চৌকস বিজিবি দল তাৎক্ষণিকভাবে তিন স্তরের রণকৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি দল সীমান্ত এলাকায়, একটি দল রঙ্গীখালী পাহাড় এলাকায় এবং অপর একটি দল কক্সবাজারগামী মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অবস্থান নেয়।
রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রঙ্গীখালীর একটি পাহাড়ে ডাকাত দলের অবস্থানের তথ্য পেয়ে সেখানে দায়িত্বে থাকা বিজিবি সদস্যরা সন্দেহজনক তৎপরতা লক্ষ্য করেন। পরে এলাকাটি ঘিরে ফেলা হলে ডাকাত দলটি বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে বিজিবির লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে ডাকাত দলটি তাদের অস্থায়ী ঘাঁটি ছেড়ে পাশের আরেকটি পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।
এরপর বিজিবির টহল দল উক্ত অস্থায়ী ঘাঁটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১টি জি-৩ রাইফেল, ১টি জি-৩ রাইফেলের অংশবিশেষ, ১টি রাইফেলের ম্যাগাজিন, ৪টি ওয়ান শুটার গান, ১টি এলজি, ১টি এম-১ (ভ্যারিয়েন্ট এমকে-২), ১টি একনলা গাদা বন্দুক (লং ব্যারেল), ২টি সিলিং, ৩টি আরজিএস হ্যান্ড গ্রেনেড, ১টি মর্টার শেল, ১৭ কেজি গান পাউডার, ১০টি হাতবোমা তৈরির উপকরণ, ৮টি চাপাতি, ৫টি ছুরি, ১টি কাঁচি, বিভিন্ন ধরনের ৩০২ রাউন্ড গুলি এবং ৫৪ রাউন্ড ব্যবহৃত গুলির খালি খোসা উদ্ধার করে।
লে. কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন আরও জানান, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সর্বদা অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের গোয়েন্দা-নির্ভর ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
















